রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে কেক, পাউরুটি, সেমাই ও মিষ্টি তৈরির বিভিন্ন কারখানা।

এসমস্ত কারখানায় অত্যান্ত নোংরা ও অস্বাস্থকর পরিবেশে তৈরি করা হয় এসব খাদ্য। এছাড়াও কেক ও পাউরুটি তৈরিতে অনেক কারখানায় ব্যবহার করা হয় পঁচা দুর্ঘন্ধ ছড়ানো ডিম। কোন কোন কারখানায় তৈরি করা এসব খাদ্যের প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের সঠিক তারিখও থাকে না।

র‌্যাবের ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযানে এমন কারখানার সন্ধ্যান মেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও গেন্ডারিয়া এলাকায়।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইল ও গেন্ডারিয়া এলাকায় রোববার র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে  এবং  র‌্যাব-১০-এর এএসপি মো. গোলাম আম্বিয়া মাহমুদের উপস্থিতিতে যৌথভাবে অভিযান চালায় র‌্যাব।

অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত মাতুয়াইলস্থ মৃর্ধা বাড়ি এলাকায় রিফাত বেকারিতে দেখতে পান, পঁচা ডিম দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে কেক ও বন রুটি। অত্যন্ত চমকপ্রদ মোড়ক দিয়ে ঢাকা কেক ও পাউরুটি। দেখলে মনে হবে খুবই উন্নত পরিবেশে তৈরী।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, কারখানায় ভেতরে ঢুকে একটু এগোলেই পঁচা গন্ধ পাওয়া যায়। তারপর আরেকটু ভেতরে গিয়ে দেখা যায় তিন খাঁচা পঁচা ডিম রাখা রয়েছে। এই তিন খাঁচায় আনুমানিক চারশত কি সাড়ে চারশত ডিম হবে। খাঁচায় রাখা কিছু ডিমের গায়ে দেখা যায় পোকা ও লার্ভা ছুটোছুটি করছে।তিনি জানান, র‌্যাব ও ভ্রাম্যমান আদালতের উপস্থিতি দেখে কারখানায় কর্তব্যরত পুরুষ কর্মচারীরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরে পঁচা ডিমের ব্যাপারে সেখানে কর্মরত মহিলা কর্মীদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান, এ ডিম দিয়েই তৈরী করা হয় কেক ও পাউরুটি।

সারওয়ার আলম আরও জানান, কারখানার দুটি কক্ষে ভবনের পাশের নর্দমার পানি প্রবেশ করছে। কারখানায় তৈরি বনরুটি ও পাউরুটি সেই পানিতেই পড়ে আছে। পরে ভ্রাম্যমান আদালত কারখানার ম্যানেজার মো. মনির হোসেন (২৫), সহকারী ম্যানেজার মো. আব্দুর রাজ্জাক (৩২) ও মিস্ত্রী মোঃ আরিফ (৪৮), প্রত্যেককে ছয় মাসের কারাদন্ড প্রদান ও কারখানাটি সীলগালা করে দেন।

অপর দিকে পাশেই অবস্থিত আরেক দামী-দামি মিষ্টি প্রস্তুত কারক গ্রামীন সুইটস -এর কারখানায় দেখা যায় বৃষ্টির কারণে জলাশয়ের দূষিত পানি কারখানার ভিতরে ও বাহিরের এলাকা একাকার। পানির মধ্যেই রাখা হয়েছে মিষ্টির খাচাগুলো। ভেতরের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশ।

কারখানার ম্যানেজার ও কর্মচারীরা জানায়, সাধারণ মিষ্টি তৈরী করা হয় ময়দা দিয়ে আর স্পেশাল মিষ্টি তৈরী করা হয় সুজি আর পাউডার দুধ দিয়ে। তাছাড়া লাচ্ছি সেমাই তৈররি করা হচ্ছে নিষিদ্ধ রং দিয়ে। এই প্রতিষ্ঠানের কেক, পাউরুটি কোনটিরই উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ নাই। আদালত এই প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত ভেজাল খাদ্য দ্রুব্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে। দেশের মানুষকে ভেজালমুক্ত খাবার খাওয়াতে এধরনের অভিযান অব্যহত থাকবে।