বিয়ের পরপরই আসে হানিমুনের পালা। আর সত্যি বলতে কি, বিয়ে নিয়ে যতটা না উত্তেজনা কাজ করে, তার চাইতে বহুগুণে বেশী উত্তেজনা কাজ করে হানিমুন নিয়ে। বিয়ের ডামাডোলের পর দুজনে একান্তে একটু নিরিবিলি সময় কাটানো, পরস্পরের শরীরের-মনের কাছাকাছি আসা, পরস্পরকে একটু ভালোভাবে বুঝতে নিয়ে, অনেকটা প্রেমে ভরা কিছু সোনালি দিন… এই তো হানিমুন! কিন্তু আপনার রোমান্টিক এই হানিমুন একেবারে বরবাদ করে দিতে পারে কিছু সাধারণ কাজই। আর তাতে রোমান্সের বদলে খিটমিট করেই পার হয়ে যাবে দিন।
কী করবেন না হানিমুনে বা কোন কাজগুলো বরবাদ করতে পারে আপনার হানিমুন? জেনে নিন ১০টি কাজের একটা তালিকা, যার ৫টি কাজের লাগবে স্বামীর ও ৫টি রইলো স্ত্রীর জন্য।


পুরুষেরা টুকে নিন
১) হানিমুনটা হওয়া উচিত আপনাদের দুজনের জীবনের সবচাইতে সুন্দর কিছু দিন। আর এই সময়টাতে বিশেষ করে নিজের স্ত্রীকে এমনভাবে ভালবাসুন যেন পৃথিবীতে তিনিই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দরী নারী। হ্যাঁ, হানিমুনের সময়টাতেও অনেক সুন্দরী দেখে চোখ আটকে যাবে আপনার। তবে তেমনটা হলেও স্ত্রীকে বুঝতে দেবেন না মোটেও। স্ত্রী অন্য নারীর প্রতি আপনাকে মনযোগী দেখলে কিন্তু খবর আছে আপনার!
২) টেলিভিশন নামক যন্ত্রটার দিকে মনযোগ দেয়াটাও কিন্তু বিপত্তি ডেকে আনতে পারে হানিমুনের দিনগুলোতে। বাকি জীবনে টেলিভিশন তো অনেক দেখা হবে, আপাতত কিছুদিন না হয় কেবল পরস্পরকে নিয়েই থাকুন। মনে রাখবেন, মেয়েরা নিজেরা টিভি দেখতে ভালবাসলেও পুরুষের টিভি দেখা সহ্য করতে পারে না মোটেও।
৩) নিজের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ্য রাখুন। হানিমুনে ছুটি কাটাচ্ছেন মানে এই নয় যে দিনের পর দিন গোসল না করে, জামা না বদলে , চুল না আঁচড়ে, শেভ না করে থাকবেন। বরং নিজেকে পরিপাটি রাখুন যতটা সম্ভব। স্ত্রী খুশি হবেন, নিজেরও ভালো লাগবে। আর না করলে স্ত্রীর বিরক্তির কারণ হয়ে উঠবেন সহসাই।
৪) খেয়াল রাখুন সবকিছু যেন ঠিক থাকে। হানিমুনে যাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা নিখুঁত রাখুন। হোটেলে বুকিং, রোমান্টিক সারপ্রাইজ ইত্যাদি সবই আগে থেকে প্ল্যান করে নিন। এই কাজটা না করলে নতুন জায়গায়, নতুন মানুষের সাথে খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারেন। বেশী সস্তা জায়গা খুঁজবেন না, অযথা দর কষাকষির মাঝেও যাবেন না। জীবনে একবারই হানিমুনে যাবেন, তেই এসব ভুলে জান।

৫) অতিরিক্ত ফোনে কথা বলে, আড্ডাবাজি থেকে শুরু করে আপনার এতদিনের অনেক বদঅভ্যাসই হয়ে উঠতে পারে স্ত্রীর চরম বিরক্তির কারণ। এমন না যে এগুলো রাতারাতি ছেড়ে দেবেন আপনি, কিন্তু হানিমুনের কটা দিন না হয় একটু বুঝে সমঝেই চলুন। ভালোবাসার খাতিরে হলেও। তাছাড়া হানিমুনে যাওয়ার জন্য সময়টাও বেছে নিন বুঝে শুনে। এবং হাতে খানিকটা সময় নিজেই যান। সময়ের অভাবে বরবাদ হয়ে যাবে হানিমুন!
নারীরা ভুলে যাবেন না
৬) আপনার স্বামী পুরুষটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দিন হানিমুনের দিনগুলোর জন্য। হতে পারে আপনি অনেক বড় চাকুরে বা বিজনেস ওম্যান, নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে পারেন। কিন্তু হানিমুনের দিনগুলোতে বেশী খবরদারি করতে যাবেন না, এতে করে স্বামীর সাথে ঘনিষ্ঠ হবার আগেই দূরত্ব তৈরি হয়ে যাবে। তিনি আপনাকে ভালোবাসেন, শান্ত মনে উপভোগ করুন সেই ভালোবাসা।
৭) নিজের প্রাক্তন প্রেমিক বা স্বামীর ব্যাপারে স্মৃতিচারণ করতে বসে যাবেন না। যদি ভালো অর্থে হয়, তাও না। যেমন- “ও আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছিল, তুমি কত ভালোবাসো” ইত্যাদি ধরণের কথা ভুলেও মুখে আনবেন না। পুরুষের অভ্যাস নেই অতীত প্রেমিকা বা স্ত্রীর কথা টেনে আনার, কিন্তু নারীদের এই অভ্যাস বেশ আছে। আর এটা মোটেও পুরুষের পছন্দ হয় না।
৮) হানিমুন মানে শপিং উৎসব না। অনেক নারীই হানিমুনে গিয়ে কেবল শপিং করেই দিন পার করেন। এই বোকামি করবেন না। হানিমুনে এসেছেন পরস্পরকে সময় দিতে, সেটাই সবার আগে দিন।
 ৯) শাশুড়িকে অবজ্ঞা করবেন না,ন্ বিরক্তি প্রকাশ করবেন না তাঁকে নিয়ে। মনে রাখবেন, আপনার স্বামীর জীবনে আপনার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ যে নারীটি আছেন, সেটা হচ্ছে তার মা। সন্তান হানিমুনে এলেও মা হয়তো ফোন করে ভালোমন্দ খোঁজখবর নেবেন। এই ব্যাপারতায় বিরক্তি দেখালে স্বামীও বিরক্ত হবেন আপনার প্রতি।
১০) অযথা সন্দেহ করে নিজেদের রোমান্টিক দিনগুলোর মোজা নষ্ট করবেন না। ‘এদিকে তাকালে কেন”, “ওই মেয়েকে দেখলে কেন”, “এত ফোনে কথা কেন” ইত্যাদি করে করে ভালোবাসার মুড নষ্ট করে ফেলবেন না। হানিমুনেই এই কাজকর্ম সংসার জীবনেও খুব ভোগাবে আপনাকে।