মা, ওটা কী?’ ‘এটা এমন কেন?’ ‘এটার নাম কী?’ ‘ওটা কী করে?’ ছোট্ট শিশুর এ রকম হাজারো প্রশ্নে অনেক সময় মা-বাবারা বিরক্ত হয়ে যান। আর হবেনই বা না কেন? এত কিছুর উত্তর কি আমরা বড়রাও জানি! উত্তর দিতে না পেরে অনেক সময় মা-বাবা শিশুকে বকাবকি শুরু করে দেন।
কেউ কেউ আবার শিশুকে মারও লাগিয়ে দেন। শিশুর প্রশ্নের উত্তর না দিলে, প্রশ্ন করার কারণে শাস্তি দিলে শিশুর বড় জায়গায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা একটু একটু করে নষ্ট হতে থাকে। অনেক সময় মা-বাবা তা বুঝতেও পারেন না। তাই আসুন জেনে নিই শিশুর প্রশ্নের মধ্যে কী কী রহস্য রয়েছে।
বুদ্ধি বেশি তো প্রশ্নও বেশি
যে শিশুদের বুদ্ধি বেশি, তারা প্রশ্নও করে বেশি। কারণ শিশুটির জানার আগ্রহ থাকে, সে তার চারপাশের সব কিছু সম্পর্কে সচেতন হতে চায়, বুঝতে চায় ও পরখ করে দেখতে চায়। কোনো বিষয় ‘এমনি এমনি হয়’ মনে না করে কারণ খুঁজতে চায়, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক দেখতে চায়। যে শিশু যত বেশি কার্যকারণ সম্পর্ক খুঁজে পায়, সে তত বেশি বুদ্ধির পরিচয় দিতে থাকে।
প্রশ্নেই জ্ঞানের বিকাশ
শিশু প্রশ্ন করলে ও সেই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর পেলে তার জ্ঞানের ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে। কেননা, সে তার পৃথিবীকে আরো ভালো করে চিনতে পারে, বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তার ধারণা সৃষ্টি হয় এবং তাদের মধ্যে সম্পর্কগুলোও বুঝতে পারে। তখন তার নতুন জ্ঞান অর্জন করাটা শুধু সহজই না, আনন্দেরও হয়।
উত্তর দিলে জ্ঞান-পিপাসা বাড়ে
শিশুকে তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলে শিশুর মধ্যে জ্ঞানের আগ্রহ বাড়ে। ফলে সে বড় হয়ে পড়াশোনায়ও ভালো করার চেষ্টা করে।
ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়
শিশুর প্রশ্নের উত্তর দিলে সে আনন্দিত হয় এবং এতে শিশুর সঙ্গে মা-বাবার ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। এ সম্পর্ক শিশুর বেড়ে ওঠা ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


ভাষার বিকাশ
শিশুকে তার প্রশ্নের উত্তর সুন্দর করে দিলে তার শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। শুধু তা-ই নয়, সে শব্দের ভালো ব্যবহারও করতে শিখতে পারে। ফলে তার ভাষার সার্বিক বিকাশ ঘটে।
উত্তর না দিলে
শিশুর প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না দিলে সে সন্তুষ্ট হয় না। তাই ইতিবাচক আচরণে মনোযোগ না পেয়ে শিশু রাগ-জিদসহ নানা নেতিবাচক আচরণ করতে পারে। ইতিবাচক দিকে আগ্রহের বৃদ্ধি না ঘটলে সে নেতিবাচক বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। শুধু তা-ই নয়, শিশুর মা-বাবা বা পরিবারের সঙ্গে কথা শেয়ারিং না করে শুধু বন্ধু-বান্ধবদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করে কৌতূহল নিবারণের চেষ্টা করে। ফলে ভুল তথ্য ও ভুল জায়গার তথ্য পেয়ে ভুলভাবে পরিচালিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই প্রতিটি মা-বাবা ও অভিভাবকের উচিত সন্তানের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে দেওয়া। তবে অবশ্যই বয়স অনুযায়ী ও শিশুর কাছে বোধগম্যভাবে উত্তরগুলো দিতে হবে। কিভাবে উত্তর দেব বুঝতে না পারলে প্রয়োজনে অন্য মা-বাবার সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে কিংবা বিভিন্ন বই-পুস্তকের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।