কার্তিক মাসের শেষ সময় চলছে। হেমন্ত ঋতুর এই সময় শীতের আগমনী বার্তা প্রকাশ করে। এসময় হালকা শীত অনুভব হয়। রাতে কাথা গায়ে দিয়ে শুতে হয়। এসময় ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। কিন্তু এত কিছুর পরও শীত বাঙালির পছন্দের অন্যতম একটি ঋতু। দোরগোড়ায় শীত চলে এসেছে। কি হচ্ছে এবার শীত প্রস্তুতিতে? দেশিয় ফ্যাশন হাউজগুলোও এখন শীত পোশাক নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। দেশিয় ফ্যাশনে এই শীতে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন আরো ফ্যাশনেবল। তাই এখন থেকেই নিতেন শীত প্রস্তুতি। এই হালকা শীতে কি পোশাক পরতে পারেন আপনি? তারই কিছু পরামর্শ দিয়েছেন দেশিয় ফ্যাশন হাউজগুলোর কর্ণধার ও ডিজাইনারগণ। এছাড়া সঙ্গে রয়েছে দেশিয় ফ্যাশন হাউজগুলোর বর্তমান শীত কালেকশনের ইতিবৃত্ত। 


শাহীন আহমেদ, কর্ণধার অঞ্জনস : 
আমাদের দেশে কয়েক বছর ধরে তেমন শীত পড়ছে না। ছেলেদের ফ্যাশনের ক্ষেত্রে শীত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শীতে ছেলেরা ফ্যাশনেবল পোশাক পরতে পারে। তাই শীত ছেলেদের কাছে অনেক প্রিয়। 
অঞ্জণ’স সব সময়ই তারুণ্যের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এবার ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রেও অঞ্জন’স গুরুত্ব দিয়ে শীতের পোশাক তৈরি করেছে। 
যারা অফিস করেন তারা হালকা শীতের প্রস্তুতী নিয়ে অফিস যেতে পারেন। 




শাল অথবা পঞ্চ পরে তারা নিজেকে ফ্যাশনেবলভাবেও উপস্থাপন করতে পারেন। আমরা এবার অ্যাম্ব্রয়ডারি উপর জোর দিয়েছি।শালে বিভিন্ন অ্যাম্ব্রয়ডারির ডিজাইন আশা করি সবার ভালো লাগবে। শীতের সময় একটু কালারফুল পোশাকই সবার পছন্দ। তাই এবার পোশাকগুলোয় আমরা উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করেছি। চেষ্টা করেছি পঞ্চগুলোও অনেক কালারফুলভাবে উপস্থাপন করতে। এছাড়া শীতের আরো বিভিন্ন পোশাক আমাদের আউটলেট’য়ে রয়েছে। কালারফুল কোটিও রয়েছে আমাদের।  
লিপি খন্দকার, বিবিয়ানা ফ্যাশন হাউজের কর্ণধার: 





বিবিয়ানায় আমরা শীতের পোশাকের ক্ষেত্রে কাথা শাল, হ্যান্ড লুমিং শাল, পঞ্চ তৈরি করে থাকি। শীতকে মাথায় রেখে ফেব্রিকসগুলো নিয়েছি এবার খাদি থেকে। 
শীতের অনেক মজা আছে। ফ্যাশনে অনেক লেয়ার করা যায়। অনেক ফ্যাশনেবলভাবে নিজেকে সবার মাঝে উপস্থাপন করা যায়। অনেকে ট্রেডিশনাল বা ওয়েস্টার্ণ বা ফিউশন পোশাক পরতে ভালবাসেন। সে ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু জ্যাকেট তৈরি করেছি যা মেয়েরা শাড়ির উপর পরতে পারবে। এগুলো খাদি কাপড়ের তৈরি। 
একটা সময় ছিল উলের তৈরি পোশাক পরতো সবাই। 



এখন সেরকম দেখা যায় না। সোয়েটার বা শালও পরতো অনেক। কিন্তু সে চল যেন এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। সেসব কথা মাথায় রেখেই আমরা এবার জ্যাকেটের দিকে নজর দিয়েছি। হ্যান্ড লুমিং, অ্যাম্ব্রয়ডারি, প্রিন্ট বিভিন্ন ধরনের মিডিয়াম আমরা ব্যবহার করেছি। যা নারীরা প্রত্যেক ড্রেসের সঙ্গেই পরতে পারে। এগুলো বিবিয়ানার সব আউটলেট’য়েই পাওয়া যাচ্ছে। 
বিপ্লব সাহা, বিশ্বরঙ কর্ণধার: 

একটু ট্রেডিশনাল পোশাকে থাকতে যারা পছন্দ করেন তারা আমাদের শালের অপেক্ষায় থাকেন। হালকা শীতের কথা ভেবে বিভিন্ন কাপড়ের সঙ্গে মিল রেখেও আমরা শাল তৈরি করে থাকি। লং, শর্ট ও মিডিয়াম জ্যাকেট তৈরি করেছি আমরা। খুব কনকনে শীতের জন্য কোটি, মাফলার, হ্যান্ড গ্লাভস, কানটুপি রয়েছে আমাদের। এক্ষেত্রে শীত বেশি হলে আমাদের খাদির তৈরি পোশাকগুলো পরতে পারেন সবাই। 
এছাড়া বয়স্কদের কথা চিন্তা করে আমরা আলাদাভাবে কাজ করি। আমার শ্রদ্ধা’য় বয়স্কদের বিভিন্ন শীত পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। যে পোশাকগুলোর রঙ ও ডিজাইনে রয়েছে ভিন্নতা।
নাদিরা ফেরদৌসী মিষ্টি, ডিজাইনার কে ক্রাফট: 
দেশিয় মেটেরিয়াল নিয়ে আমরা কাজ করে থাকি। তাই প্রতি বছর খুব বেশি আহামরি কিছু পরিবর্তন হয়না। আমরা মেয়েদের জন্য উলের তৈরি ওভার কোট, পঞ্চ, শাল তৈরি করেছি এবার। এছাড়া ছেলেদের জন্য জ্যাকেট করেছি যা আমাদের ‘ইয়াং কে’ তে পাওয়া যাবে। দেশিয় মেটেরিয়ালের বাইরে এবার ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেটেরিয়াল দিয়ে তৈরি মোটা জ্যাকেট আনা হয়েছে। এছাড়া খাদির শাল পাওয়া যাবে। শালে ব্লক, প্রিন্ট, হাতের কাজ ও অ্যাম্ব্রয়ডারি প্রাধান্য পেয়েছে। কিছু টাইডাইও থাকছে। 





শীতে ওয়ার্ম কালার পছন্দ করে মানুষ। আমরা সেদিকেও নজর দিয়েছি। মেয়েরা প্যান্টের সঙ্গে পঞ্চ পরতে পারে, যা তাদেরকে আরো স্মার্ট লাগবে। এছাড়া আমরা খাদি কাপড়ের কুর্তিও করি যা একটু মোটা কাপড়ের হয়। ভারি শীতে পরতে আরাম লাগবে। এছাড়া খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবী ও শাল রয়েছে ছেলেদের জন্য। যা এখন অনেক ট্রেন্ডি ফ্যাশন।