Yogurt to Make Your Skin Beautiful
দই একটি জনপ্রিয় দুগ্ধজাত খাবার যা গাজন প্রক্রিয়ায় উৎপাদন করা হয়। দুধের মধ্যে জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি করা হয় দই। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ দই খেয়ে আসছে।
এটি হতে পারে খাবারে অংশ বা স্ন্যাক অথবা ডেসার্ট। দইয়ে উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকে তাই এটি প্রোবায়টিক হিসেবে কাজ করে। দুধের স্বাস্থ্য উপকারিতাকেও ছাড়িয়ে যায় দইয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা। দই সাধারণত সাদা ও ঘন তরল তবে কিছু কমার্শিয়াল ব্র্যান্ডের দইয়ে কৃত্রিম রঙ দেয়া হয়।
দইয়ে উদ্ভিজ প্রোটিনের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি১২, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। দইয়ে প্রোবায়োটিক থাকে। প্রোবায়োটিক হচ্ছে বন্ধু ব্যাকটেরিয়া যা আমাদের পরিপাকতন্ত্রে থাকে। এই প্রোবায়টিকের কিছু প্রজাতি ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপিত করতে পারে এবং পরিপাকনালীকে স্বাস্থ্যবান রাখে।
দইয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা সত্যি অতুলনীয়। তাই স্বাস্থ্যবান মানুষ নিয়মিত দই খাওয়ার চেষ্টা করে। চলুন জেনে নেয়া যাক দইয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে।
 
১। এসিডিটি দূর করতে পারে
দই এর ক্যালসিয়াম পাকস্থলীতে এসিড জমতে বাঁধা দেয়। ফলে বাড়তি এসিড দূর হয়। এতে পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি প্রোবায়োটিক থাকে বলে এক বাটি দই খেলে মিনিটের মধ্যে এসিডিটির সমস্যা দূর হয়।
 
২। ব্রণের সমস্যা দূর করতে পারে
যদি আপনার ব্রণের সমস্যা থাকে তাহলে দই এর পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য ১ টেবিল চামচ দই, ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, ১ চা চামচ চন্দন গুঁড়ো এবং অর্ধেক চামচ চিনি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ব্রণের উপর এই পেস্ট লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। দই এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ ভালো হতে সাহায্য করে।
৩। সান বার্ন থেকে মুক্তি দিতে পারে
সান বার্ন থেকে মুক্তি পেতে দই এর প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। ১ টেবিল চামচ টমেটোর পেস্টের সাথে ১ টেবিল চামচ দই ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে রোদে পোড়া ত্বকের উপরে লাগান। দইয়ের ল্যাক্টিক এসিড ও শিতলীকারক উপাদান, লেবুর ব্লিচিং উপাদান এবং টমেটোর পুষ্টি উপাদান রোদে পোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
৪। খুশকি দূর করতে পারে
দইয়ে ছত্রাক নাশক উপাদান আছে তাই এটি খুশকি দূর করতে পারে। এর জন্য দই ভালো করে নেড়ে ঘন করে নিন এবং মাথার তালুতে লাগান। 
 
১ ঘন্টা এভাবে রেখে দিয়ে তারপর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্যবহারে নিস্তেজ চুল সতেজ হবে এবং চুল পড়া কমাবে।
 
৫। ইমিউনিটির উন্নতি ঘটায়
ইমিউন কম্প্রোমাইজড রোগীদের ইমিউনিটির উন্নতি ঘটায়। কম বয়সী ও বয়স্ক উভয়েরই অ্যালার্জির উপসর্গগুলো কমে দই খেলে। অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় যে প্রোটিন বৃদ্ধি পায় তার মাত্রাকে কমতে সাহায্য করে দই।
প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক দই অন্য সব দুগ্ধ জাতীয় উপাদানের চেয়ে ভালো যদি এটি চিনি মুক্ত থাকে। নিয়মিত দই খেলে রক্তচাপ কম থাকে, অস্টিওপোরোসিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়, ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে।